প্রতিষ্ঠাতার বাণী
প্রতিষ্ঠাতার বাণী
সম্মানিত পাঠক, অভিভাবক ও দ্বীনপ্রেমী ভাই-বোন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ। “দুনিয়ার শিক্ষা মানুষকে মানুষ বানায়, আর দ্বীনের শিক্ষা মানুষকে খাঁটি বানায়।” আলহামদু লিল্লাহ! মহান আল্লাহর অসীম রহমত ও আপনাদের সবার দোয়া ও সহযোগিতায় "জুবেদা খাতুন হিফজুল উলূম মাদরাসা" প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। এটা আমার জীবনের অন্যতম একটি স্বপ্ন, যা আমি বহুদিন ধরে হৃদয়ে লালন করে আসছিলাম। আল্লাহর অশেষ কৃপায় আজ তা বাস্তব রূপ পেয়েছে।
আমার প্রিয় মা (শ্বাশুরী), মরহুমা জুবেদা খাতুন (রহ.) ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ, পরহেজগার ও মানবিক গুণে গুণান্বিত নারী। তাঁর স্মৃতিকে অম্লান রাখতেই এই প্রতিষ্ঠানের নামকরণ তাঁর নামে করা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, একজন মায়ের দোয়া আর ভালোবাসা সন্তানের পথকে যেমন আলোকিত করে, তেমনি এই প্রতিষ্ঠানও একটি দ্বীনি আলো ছড়াবে সমাজে, ইনশাআল্লাহ।
বর্তমান যুগে যেখানে নৈতিকতা ও দ্বীনি চেতনা বিলুপ্তির পথে, সেখানে এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়া ছিল সময়ের দাবি। আমি বিশ্বাস করি, একমাত্র কুরআন ও সহিহ হাদীস ভিত্তিক শিক্ষা দ্বারাই আমাদের প্রজন্মকে সৎ, নৈতিক ও আল্লাহভীরু মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি বালি, টিন, ইট, প্রতিটি পর্দা, প্রতিটি দরজা যেন সাক্ষ্য দেয় আমার দোয়া, মেহনত ও একাগ্র সাধনার। আমি আশা করি, এই প্রতিষ্ঠান একদিন শুধু আমার এলাকার নয় বরং পুরো জাতির দ্বীনি জ্ঞানচর্চার এক আলোকস্তম্ভে পরিণত হবে। আমি সকল শুভাকাঙ্ক্ষীর নিকট দোয়া কামনা করি—আল্লাহ যেন আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে কবুল করেন, এটিকে খালেস নিয়তের মাধ্যমে পরিচালিত রাখেন এবং এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমি ও আমরা সকলেই পরকালের মুক্তি লাভ করতে পারি। কৃতঞ্জতা জানাই আমার পরিবারের প্রত্যেক সদস্য, এলাকার প্রতিটি মানুষ যাহারা আমাকে বিভিন্নভাবে সহযোগীত করেছেন, পরামর্শ দিয়ে, শ্রম দিয়ে, আর্থিক অনুদান দিয়ে সাহায্য করেছেন (নাম প্রকাশ করতে নিষেধ করেছেন)। দোয়া করি আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’য়ালা আপনাদের সকলের দান কবুল করে জান্নাতের ফয়সালা করে দিন। আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি সকল অভিভাবক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও দাতা সদস্যদের প্রতি, যাঁরা আমাদের এই পথচলায় সাহস, উৎসাহ ও সহায়তা দিয়েছেন। আপনাদের আন্তরিক দোয়া, সদিচ্ছা ও সহযোগিতাই আমাদের পথ চলাকে আরও সুগম করে তুলবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
হে আমার রব, আমাকে সালাত কায়েমকারী বানান এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও, আমার বংশ থেকে তদারককারী ও ইসলামের খাদেম বানান, কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত রাখুন, আপনি ইসলামের দাঈ তৈরী করুন। হে আমাদের রব, আর আমার দো‘আ কবূল করুন। হে আমাদের রব, যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন আপনি আমাকে, আমার পিতামাতাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। আমিন। হে আল্লাহ, সকল পরিবার বর্গের ও আমাদের জীবিত ও মৃত, উপস্থিত ও অনুপস্থিত, ছোট ও বড় এবং পুরুষ ও নারী সকলকে ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ! আমাদের সব কাজের শেষ ফল সুন্দর করুন এবং আমাদেরকে দুনিয়ার লাঞ্ছনা ও কবরের আজাব থেকে মুক্ত রাখুন।’ আমিন।
আমি দেশ-বিদেশের সকল দ্বীনদার ভাইবোনদের দোয়া ও আর্থিক সহযোগিতা কামনা করি—আল্লাহ যেন আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা কবুল করেন, এটিকে খাঁটি নিয়তের সাথে টিকে থাকার তাওফীক দেন এবং এই প্রতিষ্ঠানকে দিনদিন উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যান।পরিশেষে মহান আল্লাহর দরবারে এই দোয়া করি, আল্লাহ যেন এই প্রতিষ্ঠানকে নিজ কুদরতে তার কক্ষপথে পরিচালনা করেন। আমিন, ইয়া রাব্বূল আলামীন।
“সুবহানাল্লহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লহিল আযীম” সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা আশহাদুআল্লা-ইলাহা ইল্লা আনতা আসতাগফিরুকা ওয়াতুবু ইলাইক”।
জহুরা বেগম
প্রতিষ্ঠাতা
জুবেদা খাতুন হিফজুল উলূম মাদরাসা (এতিমখানা সমন্বিত একটি প্রতিষ্ঠান)
কুলধুরুয়া, নান্দাইল, ময়মনসিংহ।
